Mourn

সাব্বির রহমান মামুন স্মরণে শোক সভা অনুষ্ঠিত

সাব্বির রহমান মামুন স্মরণে শোক সভা অনুষ্ঠিত

আগ্রাবাদ কলোনীবাসীর আয়োজনে মরহুম সাব্বির রহমান মামুনের স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল

মানুষ পৃথিবীতে আসে, কিছুদিন বসবাস করে এবং একসময় মহান সৃষ্টিকর্তার ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমায়। কিন্তু কিছু মানুষ তাদের কর্ম, সততা, মানবিকতা এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে এমন একটি স্থায়ী আসন গড়ে তোলেন, যা মৃত্যুর পরও অমলিন থাকে। তেমনই একজন প্রিয় ও শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি ছিলেন মরহুম সাব্বির রহমান মামুন। তাঁর অকাল প্রয়াণে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং আগ্রাবাদ কলোনীর সর্বস্তরের মানুষ গভীর শোকাহত। তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে এবং রুহের মাগফিরাত কামনায় শুক্রবার বিকেল ৪:৩০ মিনিটে সুলতান কিচেনে এক হৃদয়স্পর্শী শোক সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আগ্রাবাদ কলোনীবাসী

শোক সভায় আগ্রাবাদ কলোনীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ,  মরহুমের পরিবার,আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী এবং শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার চোখেমুখে ছিল গভীর শোকের ছাপ এবং প্রিয় মানুষটিকে হারানোর বেদনা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত দুলাল বক্তব্যে বলেন, “মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী। পৃথিবীতে কেউ চিরদিন থাকে না। তবে যারা সৎকর্ম করে, মানুষের কল্যাণে কাজ করে এবং মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, তারা মৃত্যুর পরও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে। মরহুম সাব্বির রহমান মামুন ছিলেন তেমনই একজন মানুষ।”

শোক সভায় বক্তারা মরহুমের জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। শাহীন ভাই বলেন, সাব্বির রহমান মামুন ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, সদালাপী, দায়িত্বশীল এবং সমাজসেবামূলক মানসিকতার একজন মানুষ। তিনি সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভালোবাসতেন। এলাকার যেকোনো সমস্যা, সংকট কিংবা সামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতেন। তাঁর আন্তরিকতা ও সহযোগিতার মনোভাব সকলের কাছে তাঁকে একজন প্রিয় মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।

কাওসার ভাই বলেন, সাব্বির রহমান মামুনের সবচেয়ে বড় গুণ ছিল তাঁর মানবিকতা। তিনি মানুষের দুঃখ-কষ্টকে নিজের মনে করতেন এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতেন। কারও প্রয়োজনের কথা জানতে পারলে তিনি নীরবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন। নিজের প্রচার বা প্রশংসার প্রতি তাঁর কোনো আগ্রহ ছিল না। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের সেবা করাই সবচেয়ে বড় মানবিক দায়িত্ব।

শোক সভায় স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কেউ তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের কথা স্মরণ করেন, কেউ তাঁর সহযোগিতার মনোভাবের কথা বলেন, আবার কেউ তাঁর সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন স্মরণীয় মুহূর্তের কথা তুলে ধরেন। বক্তাদের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে একজন হাস্যোজ্জ্বল, উদার ও দায়িত্বশীল মানুষের প্রতিচ্ছবি, যিনি সবসময় সমাজের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।

আগ্রাবাদ কলোনীর ইমরান ভাই বক্তব্যে বলেন, এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সাব্বির রহমান মামুনের অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সবসময় কলোনীর ঐক্য, সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখতে সচেষ্ট ছিলেন। তরুণ প্রজন্মকে তিনি ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করতেন এবং সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন। তাঁর এই নেতৃত্বগুণ ও মানবিক আচরণ তাঁকে সবার কাছে বিশেষভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছিল।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত  তাঁর ছোট ভাই প্রকৌশলী মো. সিফাত রহমান  বলেন, সাব্বির রহমান মামুন ছিলেন তাদের জন্য একজন অভিভাবকের মতো। তিনি সবসময় সঠিক পরামর্শ দিতেন, ভালো কাজের জন্য উৎসাহ দিতেন এবং ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বলতেন। তাঁর মৃত্যুতে তারা একজন শুভাকাঙ্ক্ষী, পথপ্রদর্শক ও অভিভাবককে হারিয়েছে।

মরহুমের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, এই কঠিন সময়ে আগ্রাবাদ কলোনীবাসী যে ভালোবাসা, সহমর্মিতা এবং সমবেদনা প্রকাশ করেছেন, তা তাদের গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করা হয়।

শোক সভায় বক্তারা আরও উল্লেখ করেন যে, একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার সম্পদ বা অবস্থানে নয়, বরং তার চরিত্র, মানবিকতা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসায়। সাব্বির রহমান মামুন তাঁর জীবন দিয়ে সেই সত্যেরই প্রমাণ রেখে গেছেন। তিনি ছিলেন একজন সৎ, পরোপকারী এবং নীতিবান মানুষ। তাঁর কর্ম ও আদর্শ সমাজের মানুষের জন্য দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে মরহুমের স্মৃতির প্রতি সম্মান  তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় পরিবেশ অত্যন্ত আবেগঘন হয়ে ওঠে। অনেকের চোখে অশ্রু দেখা যায়। প্রিয় মানুষটির স্মৃতি যেন সবার হৃদয়ে নতুন করে নাড়া দেয়।

শোক সভায় বক্তারা মরহুমের অসমাপ্ত স্বপ্ন ও আদর্শকে ধারণ করার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, একজন মানুষের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হয় তাঁর ভালো কাজগুলোকে অনুসরণ করার মাধ্যমে। সাব্বির রহমান মামুন যেভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন, সমাজে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন এবং মানবিক মূল্যবোধকে লালন করেছেন, সেসব আদর্শ আমাদের নিজেদের জীবনেও ধারণ করতে হবে।

শেষপর্যায়ে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর সকল গুনাহ ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করার জন্য প্রার্থনা করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ও শক্তি দানের জন্য দোয়া করা হয়।

সুলতান কিচেনে আয়োজিত এই শোক সভা ছিল শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; বরং এটি ছিল একজন প্রিয় মানুষকে স্মরণ করার, তাঁর কর্মময় জীবনের মূল্যায়ন করার এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশের এক আন্তরিক প্রয়াস। অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রত্যেকেই অনুভব করেছেন, একজন ভালো মানুষ কখনো সত্যিকার অর্থে হারিয়ে যান না। তিনি বেঁচে থাকেন মানুষের স্মৃতিতে, ভালোবাসায় এবং তাঁর রেখে যাওয়া কর্মের মাধ্যমে।

মরহুম সাব্বির রহমান মামুনের মৃত্যুতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তবে তাঁর স্মৃতি, আদর্শ, সততা এবং মানবিকতার শিক্ষা আগ্রাবাদ কলোনীবাসীর হৃদয়ে দীর্ঘদিন ধরে বেঁচে থাকবে। সমাজের প্রতি তাঁর অবদান এবং মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

আগ্রাবাদ কলোনীবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই শোক সভা প্রমাণ করেছে যে, একজন মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা মৃত্যুর পরও অটুট থাকে। মরহুম সাব্বির রহমান মামুনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে উপস্থিত সবাই তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন—তিনি যেন মরহুমকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন এবং তাঁর পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি প্রদান করেন।

আল্লাহ মরহুম সাব্বির রহমান মামুনকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *